চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোসহ মেট্রোপলিটন অঞ্চলে তীব্র ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বন্যা, ভূমিধস ও দমকা বাতাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সেবা জোরদার করার পাশাপাশি বুধবার বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
চিলির আবহাওয়া অধিদপ্তর (ডিএমসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, উপকূলীয় পাহাড়ি এলাকা, উপত্যকা, পাহাড়ের পাদদেশ ও পার্বত্য অঞ্চলে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী দমকা বাতাসের আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে সান্তিয়াগোর এসতাসিওন সেন্ট্রাল এলাকায় আলামেদা বাস টার্মিনালের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিলির আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টায় ১০৫ থেকে ১৩৭ কিলোমিটার গতির বাতাসসহ টর্নেডো এ ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ ও মোকাবিলা পরিষেবা (সেনাপ্রেড) পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি সম্পদ ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।
সংস্থাটির আঞ্চলিক কার্যালয় জানিয়েছে, অন্তত ১৫টি বাড়ি কাঠামোগত ক্ষতির শিকার হয়েছে। নুনোয়া এলাকায় চারটি আবাসিক কমপ্লেক্সের বেজমেন্টে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের পানীয় জল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
এ ছাড়া সান্তিয়াগো মেট্রোপলিটন পার্কে ভূমিধসের পর রেকোলেতা এলাকায় দুটি বাড়ির ভেতরে কাদা ঢুকে পড়েছে।
চিলির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার ১১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০টি পৌর এলাকায় ১২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
প্রবল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে সান্তিয়াগো সেন্ট্রো স্থানীয় জনশিক্ষা পরিষেবা এবং প্রোভিদেনসিয়া, নুনোয়া ও লাস কন্দেসের পৌর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। চিলির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৩৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার গ্রাহক রাজধানী অঞ্চলের বাসিন্দা।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও অবকাঠামোর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
