October 24, 2026, 6:05 am
সংস্কারে ধীরগতি, ভোগান্তি
Reporter Name
- Update Time : Saturday, October 24, 2026
- 0 Time View
জাতীয় ডেস্ক: নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর শহরে সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজে চরম ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একযোগে সম্প্রসারণ এবং নতুন ড্রেন নির্মাণের কাজ চলায় সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে কিংবা সংস্কারকাজের কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কাজের এমন কচ্ছপ গতিতে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল প্রজেক্ট’ (আরইউডিপি) প্রকল্পের আওতায় এই উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তামান্না মোড় থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত শেরেবাংলা সড়ক এবং তুলশীরাম সড়ক থেকে বসুনিয়া মোড় পর্যন্ত শহীদ জহুরুল হক সড়ক এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সড়কগুলোতে আরসিসি ঢালাই, কার্পেটিং, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, ফুটপাত এবং আধুনিক সড়কবাতি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ‘এমএ-কেই-এসবি-জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যারা পরবর্তীতে রংপুরের ‘মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্স’-কে কাজের দায়িত্ব দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত বছর কাজ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের ৩০ শতাংশও সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। শেরেবাংলা সড়কে আংশিক ঢালাইয়ের কাজ করা হলেও তা এখনো অসমাপ্ত রয়েছে এবং জহুরুল হক সড়কে ঢালাইয়ের কাজ সবেমাত্র শুরু হয়েছে। অথচ কোনো সড়কেই এখনো কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করা হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাস্তা খুড়ে ফেলে রাখার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো খোঁজ থাকে না এবং তদারকির অভাবে কাজের গতি একেবারেই শ্লথ হয়ে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী আরসিসি ঢালাইয়ের পর পর্যাপ্ত কিউরিং বা পানি দিয়ে ভেজানোর কাজ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তবে মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী শামীম সাইদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, পৌরসভার প্রকৌশলী আইয়ুব আলী দাবি করেছেন যে কাজটি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং ঠিকাদারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য কড়া তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, জনসাধারণের পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কারের কাজে অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে এবং নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি কিংবা অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


