এপিইউবির মতে, সংঘবদ্ধ জাল সনদ ব্যবসায়ীদের অপরাধের নেতিবাচক প্রভাব বৈধ ও অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর পড়ছে। এর ফলে প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা নিয়োগকর্তাদের সন্দেহের মুখে পড়তে পারেন এবং দেশী-বিদেশী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকারী সংস্থার কাছে বাংলাদেশের শিক্ষাগত সনদের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে
দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র ও অন্যান্য একাডেমিক নথিপত্র প্রস্তুত, বিক্রয় ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এপিইউবি বলছে, শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতি শুধু আইনবিরোধী অপরাধ নয়; এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শিক্ষাগত যোগ্যতার গ্রহণযোগ্যতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি।
এপিইউবির মতে, সংঘবদ্ধ জাল সনদ ব্যবসায়ীদের অপরাধের নেতিবাচক প্রভাব বৈধ ও অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর পড়ছে। এর ফলে প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা নিয়োগকর্তাদের সন্দেহের মুখে পড়তে পারেন এবং দেশী-বিদেশী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকারী সংস্থার কাছে বাংলাদেশের শিক্ষাগত সনদের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগে ডিবি, সিআইডি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে জাল সনদ প্রস্তুতকারী, সরবরাহকারী, মধ্যস্থতাকারী এবং বিক্রয় নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করার অনুরোধ জানিয়েছে এপিইউবি।
জাল সনদ বিক্রিতে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন বিজ্ঞাপন, ভুয়া যাচাইকরণ পোর্টাল এবং ডিজিটাল লেনদেনের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সাইবার অপরাধ দমনকারী সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে এপিইউবি।
এপিইউবি বলেছে, নিরপেক্ষ তদন্তে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তাকারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সংঘবদ্ধ জালিয়াতি প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর সমন্বয়ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানায় এপিইউবি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
