দেশপ্রিয় পার্কের পুজোয় এবার দারুণ চমক! আধুনিক প্রযুক্তিতে সেজে উঠল দক্ষিণ কলকাতার এই নামী মণ্ডপ। দর্শনার্থীদের সামনে উঠে এল এক অভিনব শিল্পকর্ম। হিরো মোটোকর্পের বিশেষ উদ্যোগ ‘ডিভাইন শ্যাডোগ্রাফি’। হিরো গ্ল্যামার এক্স বাইকের খাঁটি যন্ত্রাংশ বা ‘হিরো জেনুইন পার্টস’ সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই আলোর ছায়ার জাদু।
মণ্ডপে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে মোটরবাইকের রকমারি যন্ত্রাংশ। তার ওপর থেকে ফেলা হচ্ছে আলো। আর পেছনের দেয়ালে সেই আলোর প্রক্ষেপণে ফুটে উঠছে দশভূজা দেবী দুর্গার আবক্ষ ছায়ামূর্তি। দেবীর দশ হাতে ধরা রয়েছে চিরাচরিত দশ আয়ুধ আর ত্রিশূল। যন্ত্রের শক্তির সঙ্গে আধ্যাত্মিক ভাবনার এমন অপরূপ মিলন দেখতে মণ্ডপে মানুষের ভিড় উপচে পড়েছে যেন! উৎসবের দিনগুলিতে প্রতি মুহূর্তেই নজর কাড়ছে এই কাজ।
ইঞ্জিনিয়ারিং আর শিল্পকলার এই মেলবন্ধন দেখতে দেশপ্রিয় পার্কে উপচে পড়ছে ভিড়। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আলো, বিশেষ শব্দ এবং ছায়াশিল্পের ত্রিবেণী সঙ্গমে এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকছেন দর্শকরা। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মতে, যন্ত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকা নিখুঁত কারিগরি এবং শক্তির প্রকাশ ঘটেছে এই শিল্পকর্মে।
হিরো মোটোকর্পের মার্কেটিং হেড আশিস মিধা বলেন, “ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারীশক্তিকেই চূড়ান্ত সৃজনশীলতার উৎস হিসেবে দেখা হয়। আমাদের বাইকের যন্ত্রাংশের কারিগরি এবং স্থায়িত্বের মধ্যেও সেই একই চালিকাশক্তি লুকিয়ে আছে। প্রকৌশলকে দেবী রূপ দিয়ে দুর্গোৎসবে শ্রদ্ধা জানানোই আমাদের উদ্দেশ্য।”
বিশ্বের বৃহত্তম দু’চাকার গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা হিরো মোটোকর্প এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুজোপ্রেমী দেশপ্রিয় পার্কে দেবী দর্শনে আসেন। এই ভিড়ের মধ্যে বাইকের খুচরো যন্ত্রাংশ দিয়ে দেবীর এমন ছায়ামূর্তি ফুটিয়ে তোলার ভাবনা পুজো মণ্ডপের নতুন চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোটা পুজো জুড়েই দেশপ্রিয় পার্কের মণ্ডপে দর্শনার্থীদের জন্য এই অনন্য শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে।
