Published on
:
2 min read
দিদিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন শ্রেয়া। কিন্তু মানুষের স্রোতের সামনে তাঁর সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়। চোখের সামনে ভিড়ের চাপে পড়ে গেলেন দিদি শুভম সোনকার (৩২)। তাঁকে টেনে তোলার চেষ্টা করেও পারলেন না। চারদিকে তখন শুধু মানুষের ধাক্কা, ঠেলাঠেলি আর প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। কোনও মতে নিজে বেরিয়ে আসতে পারলেও দিদিকে আর ফিরিয়ে আনতে পারলেন না শ্রেয়া। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে যে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হবে, তা ভাবতেও পারেননি কাঁকুড়গাছির সোনকার পরিবার।
শনিবার চোরবাগানের পুজোয় পরিবারের সঙ্গে গিয়েছিলেন শুভম। সঙ্গে ছিলেন বাবা-মা ও বোন শ্রেয়া। পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল পরিবারের সকলের। কিন্তু সেই আনন্দই মুহূর্তে বদলে গেল আতঙ্কে। ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান পরিবারের সদস্যেরা। তাঁদের সামলানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন শ্রেয়া। দিদিকে চোখের সামনে পড়ে যেতে দেখেও তাঁকে উদ্ধার করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান শুভম।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুজোর উদ্যোক্তাদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন শ্রেয়া। তাঁর অভিযোগ, মণ্ডপে বিপুল ভিড় জমে যাওয়া সত্ত্বেও আরও মানুষকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল। ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে লোকসমাগম বাড়ানোর দিকেই যেন বেশি নজর ছিল উদ্যোক্তাদের। পুজোয় কত মানুষের সমাগম হচ্ছে, সেই ভিড় বাড়ানোর নেশাই কি শেষ পর্যন্ত বিপদ ডেকে আনল? শ্রেয়ার অভিযোগ ঘিরে উঠছে সেই প্রশ্ন।
যে পুজোয় পরিবারের সঙ্গে আনন্দের কয়েকটি মুহূর্ত কাটাতে গিয়েছিলেন শুভম, সেখান থেকেই ফিরল তাঁর মৃত্যুর খবর। শ্রেয়ার কাছে এখন দিদিকে হারানোর শোকের সঙ্গে মিশে রয়েছে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ স্মৃতি। ভিড়ের মধ্যে দিদিকে পড়ে যেতে দেখা, তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও না পারা—সেই অসহায়তার কোনও সান্ত্বনা নেই।
উৎসবের মরশুমে মণ্ডপে মানুষের ঢল নামবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভিড় সামলানোর যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলে আনন্দের আয়োজনই যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, চোরবাগানের ঘটনা ফের সেই প্রশ্ন তুলে দিল। মানুষের সমাগম বাড়ানোই কি পুজোর সাফল্যের মাপকাঠি, নাকি প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত? প্রশ্ন উঠেছে।
