রংপুরে ২৬টি মামলার আসামি রাজিব হোসেন সুমন ওরফে মেরিল সুমনকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে নগরীর সিও বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বয়স ৩৬ বছর। তিনি নগরীর শালবন শাহীপাড়া এলাকার আবু হানিফের ছেলে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবির সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
তিনি জানান, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিও বাজার থেকে মেরিল সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, মেরিল সুমনের বিরুদ্ধে রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যাচেষ্টা ও মারামারির ৮টি, চাঁদাবাজির ৪টি, ডাকাতির প্রস্তুতির ৩টি, অস্ত্র আইনে ৬টি, হত্যা, অপহরণ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে একটি করে মামলা রয়েছে।
২০১৫ সালে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ তৎকালীন র্যাব-৫ তাকে গ্রেফতার করে। ২০১৯ সালে রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, গুলি, শুটার গান ও চীনা কুড়ালসহ তৎকালীন র্যাব-১৩ তাকে গ্রেফতার করে। ২০২৩ সালে নগরীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে পিস্তল ও ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের ওপর হামলা, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পরিকল্পনার অভিযোগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে ঠাকুরগাঁও থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবির দাবি, মেরিল সুমন দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলে অপরাধজগতের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং বালুমহল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেরিল সুমনকে এসআরবি-১৩ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান এবং সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
