মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। তাকে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার শতখালী বাজারের জব্বারের ইলেকট্রিক দোকান থেকে আজগার, ওবায়দুর, গোপাল ও জব্বারসহ চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ ওঠে মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে। তারা সবাই যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগে থেকে চলে আসা দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরো তীব্র হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক জসীম উদ্দীনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। শতখালী নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মোস্তাক, মন্টু, সবুজ ও মিন্টুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী সিদ্দিকুর রহমান, ওয়াদুদ বিশ্বাস ও আসিফ শিকদারের বাগবিতণ্ডা হতে দেখেন। তিনি মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে রেখে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মোবাইল বের করে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন।
জসীম উদ্দীনের অভিযোগ, ভিডিও ধারণ করতে দেখেই মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তার অনুসারীরা তার ওপর হামলা চালান এবং মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তার দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপের পক্ষ হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তার ওপর হামলা হয়েছে।
শালিখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
