Published on
:
2 min read
সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে। বেশির ভাগ সময় সদ্যোজাতের সঙ্গে কাটাতে হয়। বহির্জগৎ থেকে দূরত্ব বাড়লেও অনেক সময় অবসাদ ঘিরে ধরে। আর পাঁচটা সাধারণ মায়ের মতো গ্ল্যামার দুনিয়ার সেলিব্রিটি মায়েরাও এই ধরনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। সেই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। সম্প্রতি একটি রিয়েলিটি শো-তে অংশগ্রহণ করার আগে এক সাক্ষাৎকারে মাতৃত্বের পরের পরিচিতি সঙ্কট ও প্রসব-পরবর্তী অবসাদ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক কর্মী ফহাদ আহমেদের সঙ্গে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন স্বরা। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই তাঁদের কোল আলো করে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান। মাতৃত্বের পরের অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে গিয়ে স্বরা জানান, গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়টি তাঁর কাছে অনেকটা টাইফুন বা টর্নেডোর মতো ছিল। যে ঝড় তাঁকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে একেবারে বদলে দিয়েছে।
আজীবন কর্মমুখী এবং নিজের কাজ নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বরা জানান, মেয়ের জন্মের পর তাঁর প্রথম দু’বছর ঘরের বাইরে পা রাখতে চাইতেন না তিনি। গর্ভাবস্থার পরে ওজন না কমানোর নেপথ্য কারণ হিসেবে তিনি মজার ছলে বলেন, সন্তানকে একা রেখে কে আর প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে জিমে যাওয়ার সময় পাবে! অতীতে কট্টর নারীবাদী হিসেবে পরিচিত স্বরা মজার ছলে বলেন যে, এখন নিজের পছন্দমতো পুরো সময়টাই হাউজ়ওয়াইফ হিসেবে কাটাতে গিয়ে তাঁর মধ্যে এক অদ্ভুত ধরনের রিভার্স ফেমিনিজ়ম গিল্ট বা অপরাধবোধ কাজ করে।
স্বরা জানান, গর্ভধারণের শুরু থেকে মা হওয়ার পরে পর্যন্ত যে ধরনের পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল, সেগুলি বুঝতে এবং মেনে নিতেই অনেকটা সময় লেগেছিল। তিনি জানান, postpartum depression বা ডিপ্রেসিভ এপিসোড তাঁর মধ্যেও দেখা দিয়েছিল। এ সব নিয়ে সমাজে খুব একটা আলোচনা হয় না। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি থেরাপিস্ট এবং এন্ডোক্রিনোলজিস্টেরও সাহায্য নিয়েছিলেন। এবং আজও কাউন্সেলিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
মনেবিদরা বলছেন, মাতৃত্বের পরে মধ্যে এই ধরনের সঙ্কট হওয়া খুবই স্বাভাবিক, বিশেষ করে যাঁরা নিজেদের কর্মজীবন ও কেরিয়ার নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন, তাঁরা এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন বেশি। মা হওয়ার অর্থ শুধুমাত্র নতুন একটি দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া নয়। তার পাশাপাশি সেই নারীর রুটিন, সম্পর্ক, শরীর, অগ্রাধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এক নিমেষে বদলে যায়। সন্তানকে প্রচণ্ড ভালোবাসার পরেও আগের মতো স্বাধীনতা ও নিজের সত্তাকে হারিয়ে ফেলার একটা গোপন যন্ত্রণা ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব নতুন মায়ের মধ্যে কাজ করে। একে অনেকেই নিজের দোষ বলে ভেবে ভুল করেন, অথচ এটি স্বাভাবিক একটি মানসিক রূপান্তর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মানসিক দ্বন্দ্ব থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কয়েকটি বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া দরকার।
অনুভূতির স্বীকৃতি: একজন মা অত্যন্ত যত্নশীল হওয়ার পরেও নিজের মধ্যে অপরাধবোধ, স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলার কষ্ট বা বিরক্তি অনুভব করতেই পারেন। এই অনুভূতিগুলিকে দমন না করে মেনে নেওয়া উচিত।
পেশাদার সাহায্য নেওয়া: যদি অতিরিক্ত হতাশা, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, তীব্র উদ্বেগ বা দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা দেখা দেয়, তবে এটিকে সাধরণ কোনও সমস্যা না ভেবে ফেলে না রাখাই ভালো। যদি তা পোস্টপার্টম ডিপ্রেশন হিসেবে চিহ্নিত হয়, সে ক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসা ও থেরাপি শুরু করা বাঞ্ছনীয়।