কালবেলা · general
কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে জিয়াউল আহসান
১৩/১০/২০২৬

শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে তাকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে শুনানি চলাকালে প্রয়োজন হলে মুঠোফোনে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন তিনি। এ জন্য আসামি ও তার আইনজীবীর মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জেরা শুরুর দিনে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন জিয়াউল আহসান।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে তার আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহারের আবেদনের শুনানি হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শুরু করার অনুমতি দেন।
শুনানি শুরুর আগে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এত দিন প্রতিদিনই জিয়াউল আহসানকে নিয়মিত ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তবে গত ৮ অক্টোবর তার জীবননাশের আশঙ্কার কথা জানিয়ে আবেদন করেন আইনজীবী নাজনীন নাহার।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণে তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজনভ্যানে আনা-নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। আসামির নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করলেও অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজনভ্যানে আনা-নেওয়ার আবেদনে আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন।’
তামিম আরও বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতার কারণে জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি হাজিরার আবেদন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল ও কারাগারে অডিও-ভিজ্যুয়াল যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকায় এভাবে শুনানিতে অংশ নেওয়া সম্ভব। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।’
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শুরুর আগে নাজনীন নাহার আগের একটি আবেদন প্রত্যাহারের বিষয়ে শুনানি করেন। তিনি জানান, জিয়াউল আহসানকে অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রিজনভ্যানে আনা-নেওয়ার যে আবেদন করা হয়েছিল, সেটি আর বহাল রাখতে চান না তারা। তাকে একা আনা-নেওয়া করা হলে তাদের আপত্তি নেই। তবে শুনানির সময় জিয়াউল আহসান নিজে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকতে চান।
জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, গত ৮ অক্টোবর এ বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পরে বিকেলে জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে বিষয়টি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
তবে নাজনীন নাহার জানান, তারা ওই আদেশ পাননি। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আদেশের বিষয়টি জানতে পারেননি। এ কারণে পরের কার্যদিবসের শুরুতে আগের আবেদন প্রত্যাহারের কথা জানান তিনি।
শুনানিতে নাজনীন নাহার বলেন, ‘জিয়াউল আহসান সশরীর উপস্থিত না থাকলে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার সময় সম্পূরক প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে তার পরামর্শ নেওয়া কঠিন হবে।’
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেন, ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার সময় জিয়াউল আহসানের কাছে একটি মুঠোফোন থাকবে। ট্রাইব্যুনালে থাকা তার আইনজীবীর কাছেও একটি মুঠোফোন থাকবে। প্রয়োজনে আসামি ফোন করে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী, আসামি ও তার আইনজীবী হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথা বলতে পারবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় সিম সরবরাহ করবে আসামিপক্ষ। শুনানি চলাকালে প্রয়োজন হলে তারা যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া শুনানির দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আইনজীবী জিয়াউল আহসানের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলতে পারবেন। ভার্চুয়াল শুনানির সময় জিয়াউল আহসান হাত তুললে তাকে ট্রাইব্যুনালে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হবে।
পরে এসব নির্দেশনার মধ্য দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। এ সময় কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেন জিয়াউল আহসান।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের বড় পর্দায় জিয়াউল আহসানকে দেখা গেছে। তিনিও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম দেখতে ও সবার বক্তব্য শুনতে পেরেছেন। একইভাবে তার বক্তব্যও ট্রাইব্যুনাল শুনেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনজীবীর সঙ্গে গোপনীয় যোগাযোগের সুযোগ রেখে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতেই আপাতত তার মামলার কার্যক্রম চলবে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে ট্রাইব্যুনাল তাকে সশরীরে হাজির করার নির্দেশ দিতে পারবেন।’
জেরার একাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর পরের শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗