ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে তারা হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এবার ২১ বছর বয়সী তরুণ অলরাউন্ডা আরাফাত মিনহাসের জাদুকরী পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডকে তারা ৮৭ রানে হারিয়েছে। ওয়ানডেতে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরির পর বোলিংয়ে ৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে স্বাগিতক পাকিস্তান ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রান তোলে। তাদের পক্ষে হাসান নেওয়াজ সর্বোচ্চ ৭৯ এবং মিনহাস ৫৯ রান করেন। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা দারুণ হলেও ১৭৭ রানে পঞ্চম উইকেট পতনের মধ্য দিয়ে ইংলিশরা খেই হারিয়ে ফেলে। পরবর্তী ৩৮ রানে বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে তারা অলআউট হয় ২১৫ রানে।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো হয়নি। সফরকারী পেসার গাস অ্যাটকিনসের করা ইনিংসের প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দেন ফখর জামান। আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবও সুবিধা করতে পারেননি। ৮ রান করে তিনি সনি বাকেরের বলে ক্যাচ দেন। আগের ম্যাচে হাফসেঞ্চুরির নিকটে থেকে আউট হয়েছিলেন বাবর আজম। অভিজ্ঞ এই তারকা আজও ক্রিজে সেট হয়ে ফিরেছেন ৩৪ রান করে।
দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে সাদ বেগও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। তার ব্যাটে আসে ৩৫ রান। গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সালমান আলি আগা আউট হন ১৬ রানে। পাকিস্তানের ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটিটা আসে এরপর। হাসান-মিনহাস মিলে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। ওয়ানডেতে দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর হাসান ৭৪ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৯ এবং মিনহাস ৫৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেন। শেষদিকে ফাহিম আশরাফ ২৬ বলে ৩৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেললে পাকিস্তানের সংগ্রহ তিনশ পেরোয়। ইংলিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন সনি বাকের।

জবাব দিতে নেমে ইংলিশদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যান দুই ওপেনার টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেট। ডাকেটের বিদায়ে ৯১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। ৪৬ বলে ৮ চারে ৪৫ রান করেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। নিজের শেষ তিন ম্যাচে ন্যূনতম হাফসেঞ্চুরি করা ব্যান্টন ফেরেন ৫৩ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫৭ রান করে। এর বাইরে কেউই ইংলিশদের পক্ষে সেভাবে আশা দেখাতে পারেননি। জো রুট ৩৩ এবং স্যাম কারানের ২৭ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো ইনিংস না আসায় ইংলিশদের জয়ের আশা মুখ থুবড়ে পড়ে।

তাদের বিপক্ষে পাকিস্তানকে বোলিংয়ে নেতৃত্ব দিলেন ২১ বছরের অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস। স্পিন ঘূর্ণিতে ৮.৪ ওভারে ৪০ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে হাফসেঞ্চুরি ও ফাইফারের কীর্তি গড়লেন মিনহাস। আব্দুল রাজ্জাক একবার এবং কিংবদন্তি শহীদ আফ্রিদি তিনবার ওই নজির গড়েন। মিনহাস-ঝড়ে ৩৮.৪ ওভারেই ইংলিশরা ২১৫ রানে গুটিয়ে যায়।
এএইচএস
