সমিতির সভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সমিতির কোষাধ্যক্ষ এফ.এম. তসলিম রেজা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোন্তাকাটা ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার। এ ছাড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মন্টু ফরাজীসহ সমিতির সদস্য ও স্থানীয় কৃষকেরা সভায় অংশ নেন।
কৃষি উন্নয়নে সরকারি সহায়তার ওপর গুরুত্ব, প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদ কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, কৃষকদের জন্য ভর্তুকি এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আধুনিক কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ, কৃষিপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং উৎপাদন বাড়াতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, উন্নত কৃষিপ্রযুক্তির প্রসার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। কৃষির টেকসই উন্নয়ন ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি তাঁদের সচেতনতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ।
সময়মতো কৃষি উপকরণ ও প্রণোদনা সরবরাহের দাবি, সভাপতির বক্তব্যে মো. গোলাম কিবরিয়া কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষিকাজ সচল রাখা এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার, কীটনাশক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রণোদনা ও কৃষি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে যথাসময়ে পৌঁছে দিতে হবে। এতে কৃষকেরা আর্থিকভাবে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনে সেচের পানি সরবরাহের আহ্বান, শুকনো মৌসুমে সেচের পানির সংকটকে এলাকার কৃষকদের অন্যতম সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন সমিতির সভাপতি। এ সমস্যা সমাধানে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, নিয়মিত সেচের পানি নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা সময়মতো ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে বর্তমানে অনাবাদি থাকা জমি চাষের আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে।
এ ছাড়া কৃষিকাজকে আরও সহজ, আধুনিক ও লাভজনক করতে কৃষকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহের দাবি জানানো হয়। সভায় বক্তারা বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, উন্নত সেচব্যবস্থা এবং কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে।
কৃষকদের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা কামনা, সভায় বক্তারা স্থানীয় কৃষকদের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি কৃষকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা এবং সমিতির কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। সাধারণ সভায় এলাকার কৃষকদের নানা সমস্যা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি এবং স্থানীয় কৃষি খাতের উন্নয়নে করণীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কৃষকদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ও সরকারি প্রণোদনা সময়মতো সরবরাহ, আধুনিক কৃষি সরঞ্জামের প্রাপ্যতা এবং উন্নত সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে উত্তর গোলবুনিয়া এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি তাঁদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
The post শরণখোলায় কৃষক সমিতির সাধারণ সভা, কৃষি উপকরণ ও আধুনিক সেচব্যবস্থা চান কৃষকেরা appeared first on ভোরের চেতনা.
