২০২৩ সালে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই ভালোবাসার পরিণতি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড! সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসায় তরুণীকে নৃশংসভাবে খুন প্রেমিকের! শেষবারের জন্য দেখা করার অছিলায় ডেকে শ্বাসরোধ করে ‘খুন’। এখানেই শেষ নয়, মৃত্যু নিশ্চিত করতে পাথর দিয়ে আঘাত। অবশেষে প্রমাণ লোপাটে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ। গ্রেপ্তার অভিযুক্ত প্রেমিক।
নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে কেরলমের ইডুক্কি জেলায়। মৃত তরুণীর নাম নিথ্যা। তিনি তামিলনাড়ুর বোডীনায়কানুরের পরমশিবম কইল স্ট্রিটের বাসিন্দা। অভিযুক্ত প্রেমিক নিশান্ত ভট্টপারার বি ডিভিশনের বাসিন্দা। পড়াশোনার সূত্রে তাঁদের পরিচয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন নিথ্যা। নিশান্ত অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছিলেন তাই নিথ্যা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন বলে দাবি তাঁর পরিবারের।
নিথ্যা সম্পর্ক ছেদ করায় তা মানতে পারেননি নিশান্ত। বারবার তিনি তরুণীকে দেখা করার কথা বলেন। অবশেষে তাঁর সঙ্গে করেন নিথ্যা। সেটাই কাল হল! অক্টোবরের ১১ তারিখ বাড়ি থেকে বেরন নিথ্যা। পুপরার একটি চা বাগানে দেখা করেন নিশান্তের সঙ্গে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেখানে যুগলের বচসা বাধে। তা থেকে হাতাহাতি। তারপর খুন।
পুলিশের দাবি, ধৃত অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। কী করে খুন? বচসার সময় নিশান্ত তাঁর প্রেমিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। তারপর দেহে ইট দিয়ে আঘাত। নিথ্যার মৃত্যুর পর দেহ সেখানেই ফেলে চলে যান অভিযুক্ত। কিন্তু পরে ফের ফিরে আসে ঘটনাস্থলে। প্রমাণ লোপাট করতে রাতে ওই তরুণীর দেহ অটোয় চাপিয়ে পাম্বলা বাঁধ এলাকায় নিয়ে যান নিশান্ত। সেখানে দেহ ফেলে দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ দিকে মেয়ে ফিরে না আসায় নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা। এ দিকে পাম্বলা এলাকার বাসিন্দারা সকালে অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার করেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। খবর দেওয়া হয় নিথ্যার পরিবার। তাঁরা দেহ শনাক্ত করেন। এরপরই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বিভিন্ন সূত্র ধরে রাজকুমারী এলাকা থেকে নিশান্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
