ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি সামনে রেখে কথিত কালোজাদুর আচার পালনের অভিযোগে উত্তর প্রদেশে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শ্মশানের কাছাকাছি এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) উত্তর প্রদেশের দোহরিঘাট থানায় এ মামলা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য জানতে বিভিন্ন দিক থেকে অনুসন্ধান চলছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে সারযু নদীর তীরে নরেন্দ্র মোদীর একটি ছবি রাখা অবস্থায় দেখা যায়। ছবিটির চারপাশে নারকেল, লেবু এবং কমলা রঙের গুঁড়াসহ বিভিন্ন সামগ্রী সাজানো ছিল। উত্তর প্রদেশের দোহরিঘাট থানা এলাকার নদীতীরবর্তী স্থানে এসব উপকরণ রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওতে প্রদর্শিত কর্মকাণ্ডকে কথিত কালোজাদুর আচার হিসেবে সন্দেহ করা হলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই ভিডিওটির উৎস এবং এতে দেখানো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘোসি সার্কেলের পুলিশ কর্মকর্তা সত্যেন্দ্র ভূষণ তিওয়ারি জানান, শনিবার দোহরিঘাট থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। নদীর তীরে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও অন্যান্য সামগ্রী কে রেখেছিলেন, তা শনাক্ত করাই এখন তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রথম কোথা থেকে ছড়িয়েছে, কারা এটি প্রকাশ করেছে এবং এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কাজে পুলিশের সাইবার শাখার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য ও আলামত যাচাই করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ।
ভিডিওতে প্রদর্শিত কর্মকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
