কে হবে পরবর্তী দলাই লামা? এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বের সকল তিব্বতি ও বৌদ্ধরা যেন দলাই লামার উত্তরসূরির জন্য প্রস্তুত হন, এই মর্মে বার্তা দিল ভারতে নির্বাসিত তিব্বতের সরকার। এইসঙ্গে বিদেশি সরকারগুলি যেন বেজিং কর্তৃক পরিচালিত দলাই লামার ‘উত্তরাধিকার’ বা ‘পুনর্জন্ম’ প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করে, সে কথাও জানানো হল।
বর্তমান দলাই লামার ৯১ বছর বয়স। পরবর্তী দলাই লামা কে হবে, তা নিয়ে ভারতে নির্বাসিত তিব্বতি সরকার (সেন্ট্রাল টিবেটিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা সিটিএ) এবং বেজিংয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। সিটিএ জানিয়েছে, দলাই লামার ‘পুনর্জন্মে’র জন্য চিন বারবার “তিনটি শর্ত” উল্লেখ করেছে। বিপরীতে বিভিন্ন সরকার ও তিব্বতি বৌদ্ধ সংগঠনের প্রায় ১৫০টি প্রস্তাব ও বিবৃতির উল্লেখ করা হচ্ছে, যা চিনা হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। আরও বলা হয়েছে, ৩৮টির বেশি দেশ তাদের এই অবস্থানকে সমর্থন করে।
ধর্মশালার তিব্বতি মন্ত্রিসভার সদস্যরা চিনের স্বীকৃত পাঞ্চেন লামা গিয়ালৎসেন নরবুকে রাষ্ট্র সমর্থিত প্রতিনিধি বলে মনে করে। তারা গেদুন চোয়েকি নিমার মুক্তি দাবি করে, যাকে দালাই লামা একাদশ পাঞ্চেন লামা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সাল থেকে যিনি চিনের জেলে বন্দি। সিটিএ চায় অন্যান্য তিব্বতি রাজনৈতিক বন্দিরাও মুক্তি পাক।
গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে স্বাধীনতা নয়, চিনের ভেতরেই স্বায়ত্তশাসন দাবি করে আসছে নির্বাসিত তিব্বতি সরকার। এর সূত্রপাত ১৯৭৩ সালে, যখন দালাই লামা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, তিব্বতি পরিচিতি রক্ষা করা এবং অর্থবহ স্বায়ত্তশাসন অর্জন করাটা স্বাধীনতার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে উভয়পক্ষে আলোচনাও হয়েছিল। ২০০২ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সিটিএ প্রতিনিধিরা এবং চিনা সরকার নয় দফা বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। যদিও রফাসূত্র মেলেনি।
বর্তমানে সিটিএ একটি সমাধান খুঁজছে। তারা বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে— তারা যেন বেজিংকে কোনও শর্ত ছাড়াই ফের আলোচনার টেবিলে ফেরাতে চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়াও ২০২৪ সালে পাশ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইন— ‘প্রমোটিং আ রেজোলিউশন টু দ্য তিব্বত-চিন ডিসপিউট অ্যাক্ট’ (তিব্বত-চিন বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা বিষয়ক আইন)—কে আন্তর্জাতিক সমর্থনের একটি নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে দলাই লামার উত্তরসূরি নিয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে নির্বাসিত সরকারের দ্বন্দ্ব অব্যাহত।
