Bhandani Puja
দশমী শেষ হতেই উত্তরবঙ্গে শুরু ভান্ডানি পুজো
-
- 22 Oct 2026
- by গণশক্তির প্রতিবেদন
ফাইল ছবি
×
উত্তরবঙ্গে উমার বিদায়ের পর বিষাদ নয়, ভান্ডানি আরাধনাকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে দশমীর পর থেকে শুরু হল উৎসব।
মেখলিগঞ্জের ১৪/১৫ টি জায়গায় ভান্ডানি ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকে উৎসব শুরু হল। এছাড়াও কেদারহাট, কেশরিবাড়ি জালিয়ারটারি থেকে বিভিন্ন এলাকায় চলছে পুজো আর উৎসব।
একাদশী তিথিতে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ন এলাকায় শুরু হয় ভান্ডানি পুজো ও মেলা। মাথাভাঙা মেলার মাঠ প্রাঙ্গনে এই উপলক্ষে মেলা ও ভাওয়াইয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উদ্যোক্তারা। এবারেও তিনদিন ব্যাপী বাংলাদেশ, নেপাল ও আসামের লোকশিল্পীদের সঙ্গীত ও নৃত্য প্রদর্শনী থাকবে। মাথাভাঙা মহকুমার কেদারহাট গ্রামপঞ্চায়েতের শতাব্দী প্রাচিন ভান্ডানি পুজা ও মেলা এবছর ১৬৮ বছরে পদার্পণ করলো। জোরপাটকি গ্রামপঞ্চায়েতের গোলকগঞ্জ বাজার এলাকা, প্রেমেরডাঙা গ্রামপঞ্চায়েতে ভান্ডানি পুজা অনুষ্ঠিত হয়।
ভান্ডানি পুজা নিয়ে যে লোকশ্রুতি রয়েছে সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে লোকসংস্কৃতির গবেষক শিক্ষক কানু বর্মন বলেন, সমতলে পুজা নিয়ে হিমালয়ে সপরিবারে দেবি দুর্গার ফেরার সময়ে ডুর্য়াসে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। এখানকার আদি বাসিন্দা রাজবংশী সম্প্রদায়ের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে সাধারণ মহিলার বেশে আশ্রয় পার্থনা করেন। নিয়ম অনুসারে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ অচেনা কোনো মহিলা মানুষকে বাড়িতে আশ্রয় দেয় না। ফলে দেবি একদিনের জন্য রাধুনি হিসেবে বাড়িতে থাকতে দিতে অনুরোধ করেন। পরদিন ফেরার সময় দেবি নিজের রুপ ধারন করেন, এই থেকে ডুয়ার্সে দশমির পরদিন একাদশিতে ভান্ডানি পুজা অনুষ্ঠিত হয়। অপর লোকশ্রুতি অনুযায়ি ঘনজঙ্গলে ভর্তি ডুয়ার্সের আদি বাসিন্দা রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ বাঘের হাত থেকে বাচতে বনদূর্গা হিসেবে দেবির আরাধনা করে থাকেন। ভান্ডানি দেবির পুজায় পায়রা, পাঠা বলির দেওয়া প্রচলন রয়েছে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারজেলার বিস্তীর্ন এলাকায় ভান্ডানি বা বনদূর্গার পুজার আয়োজন করা হয়। ময়নাগুড়ির উল্লাডাবরিতে ভান্ডানি পুজো উপলক্ষ্যে মেলা বসে। ধুপগুড়ি ব্লকের রায়পাড়া, বারোঘরিয়াতেও ভান্ডানি মেলা বসে। মেটেলি ব্লকের দক্ষিন ধুপঝুড়া ও মাল ব্লকের ক্রান্তিতে একদিনের মেলা বসে। মেখলিগঞ্জের রানীরহাটে বসে মেলা। এছাড়াও ডুয়ার্সের বিভিন্ন জায়গায় ভান্ডানি পুজা উপলক্ষে মেলা বসে। দুর্গার বিসর্জনের পর ভান্ডনির আরাধনায় মেতে উঠেন উত্তরের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ। মাথাভাঙা ভান্ডানি পুজা ও উৎসব কমিটির সভাপতি পদ্মশ্রী গীতা রায় বর্মন বলেন, আমাদের পুজো উৎসব এবছর ১৭ তম বর্ষে পদার্পণ করলো। তিনদিন ব্যাপী প্রতিযোগিতা মূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
