আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচন নিয়ে নেতানিয়াহু বেশ চিন্তিত। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ ও নতুন সরকার গঠনে একজন আরব নেতার প্রভাবের কথা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বেশ ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। কেউ কেউ তাকে ‘কিংমেকার’ হিসেবেও বিবেচনা করছেন। তেলআবিবজুড়ে নির্বাচন প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনগুলোও এমন আভাস দিচ্ছে। সেই আরব নেতার নাম মনসুর আব্বাস। পেশায় তিনি ছিলেন একজন দন্ত চিকিৎসক, সেখান থেকেই তার রাজনীতিতে আসা। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষেত্রে এই আরব নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। নির্বাচন সামনে রেখে বেশ তৎপর নেতানিয়াহু। চালাচ্ছেন জোর প্রচারণা। তার প্রচারণায় বারবার উঠে আসছে মনসুর আব্বাসের নাম, যিনি ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ বা ‘রাআম’ নামক একটি ইসলামপন্থী দলের প্রধান। সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে ইহুদি ভোটারদের সতর্ক করে বলা হচ্ছে, তিনি যদি নির্বাচনে হেরে যান, তবে পরবর্তী সরকারে মনসুর আব্বাসই হয়ে উঠবেন ক্ষমতার আসল উৎস। আব্বাস ইসরাইলের ভেতর থেকেই এক বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াবেন। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে অন্যতম চালিকা শক্তি হয়ে তিনি দেশকে এমন এক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবেন, যা ডানপন্থী বহু ইসরাইলিকে আতঙ্কিত করে তুলবে।
প্রকৃত অবস্থা আসলে ভিন্ন। মনসুর আব্বাস যেসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, তার সাথে পশ্চিম তীর বা গাজার সম্পর্ক খুবই সামান্য। তার মূল মনোযোগ ইসরাইলের আরব নাগরিকদের ওপর, যারা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। এই জনগোষ্ঠী বর্তমানে সহিংস অপরাধ ও আবাসন সংক্রান্ত বৈষম্যের কারণে চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর ইসরাইলের জায়নবিরোধী শিবিরের শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতা একটি ‘অ-আক্রমণ চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করাই তাদের লক্ষ্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় আব্বাসের ওপর নেতানিয়াহুর অব্যাহত আক্রমণের কারণ হলো, নির্বাচনে তিনি নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন। ইসরাইলের বহুদলীয় ব্যবস্থায় বিরোধীদলীয় নেতাদের জন্য মনসুর আব্বাসের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর মতো বড় জোট গঠন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণেই আব্বাসকে ইসরাইলের প্রভাবশালী আরব নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনেকে তাকে ‘কিংমেকার’ হিসেবেও অভিহিত করছেন।
বর্তমান সময়ে জোটের রাজনীতি নতুন কোনো বিষয় নয়। ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসরাইলেও লক্ষ্য করা গেল জোট। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একজোট হয়েছেন দেশটির বিরোধীদলের পাঁচ নেতা। তারা একটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াব লাপিদের তেলআবিবের বাসভবনে চুক্তি স্বাক্ষর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্রেটস দলের নেতা ইয়ার গোলান এবং ইসরাইল বেইতেইনু দলের প্রধান আভিগদোর লিবারম্যান। যুদ্ধভারাক্রান্ত নেতানিয়াহুর সামনে আর্থিক সংকট ছাড়াও রয়েছে সামাজিক বিভাজন। এবারের নির্বাচন তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
