একটি প্রশ্ন, কয়েকটি শব্দ। অথচ সেই মুহূর্তটিই একজন পেশাদার মানুষের কাছে হয়ে উঠতে পারে অনেক বড় প্রাপ্তি। রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান যখন শত ব্যস্ততা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেও নাম ধরে খোঁজ নেন, তখন সেই অভিজ্ঞতা কেবল সৌজন্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; তাতে মিশে থাকে স্বীকৃতি পাওয়ার আনন্দ, পেশাগত আত্মমর্যাদা ও দায়িত্ব পালনের নতুন প্রেরণা।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমের কাছে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মুহূর্তটি ছিল তেমনই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিমানবন্দরে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তাঁর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ সংক্ষিপ্ত এই প্রশ্নেই আবেগাপ্লুত ও আনন্দিত মাসুদ আলম। তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—প্রধানমন্ত্রী তাঁকে চেনেন এবং মনে রেখেছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন আন্তরিক খোঁজখবর পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মাসুদ আলম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘আমার দেশ’কে বলেন, ‘এটি আমার জন্য গর্বের। স্যার আমাকে চেনেন, এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি তো কাজের মানুষ; আরও উৎসাহ নিয়ে দেশের জন্য কাজ করে যাব।’
তার এই অভিব্যক্তিতে ব্যক্তিগত আনন্দের পাশাপাশি পেশাগত দায়বদ্ধতার বিষয়টিও ফুটে ওঠে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাজের স্বীকৃতি সব সময় পদক, পুরস্কার কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রশংসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মনে রাখা, দায়িত্বের জায়গা থেকে চেনা কিংবা আন্তরিকভাবে খোঁজ নেওয়াও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
মাসুদ আলমের বক্তব্যেও সেই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই চেনা ও মনে রাখাকে তিনি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন, তবে সেই আনন্দের মধ্যেও তার মূল অঙ্গীকার কাজকে ঘিরেই—দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা। এর আগে সম্প্রতি হাটহাজারীতে প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি অনুষ্ঠানেও একইভাবে মাসুদ আলমকে ডেকে খোঁজ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চট্টগ্রামের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সন্ধ্যায় সামরিক বিমানে তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিমান থেকে নেমে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিকতার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের সামনে এসে তাঁর সঙ্গে করমর্দন করেন তারেক রহমান। এরপরই অত্যন্ত সহজাত ভঙ্গিতে জানতে চান, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ উত্তরে মাসুদ আলম বিনয়ের সঙ্গে ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের এই কথোপকথন তাঁর কর্মজীবনে এক স্মরণীয় স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
বিমানবন্দরের সেই মুহূর্তটি দীর্ঘ ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর সামনে তখন আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন এবং সূচিতে ছিল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের ব্যস্ততা। তবে ব্যক্তিগতভাবে মাসুদ আলমের কাছে এ ঘটনার গুরুত্ব সময়ের পরিমাপে নয়, বরং সরকারপ্রধানের আন্তরিক পরিচিতি ও স্বীকৃতির মর্যাদায়।
