রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কাকে ৮২ রানের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান। সিরিজের প্রথম ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিলেন তরুণ সেনসেশন মায়াজ সাদাঘাত এবং নতুন অধিনায়ক সাহেবজাদা ফারহান।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ফ্ল্যাট উইকেটে শুরু থেকেই চড়াও হন দুই পাকিস্তানি ওপেনার। পাওয়ারপ্লের পর ফখর জামান দ্রুত রান তুলতে গিয়ে মাহিশ থিকশানের শিকার হয়ে ফিরলেও অধিনায়ক ফারহান দমে যাননি। অফ স্পিনারের ওপর চড়াও হয়ে টানা দুটি ৯০ মিটারের বেশি দূরে ছক্কা হাঁকান তিনি। ৩১ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অধিনায়ক। শুরুর দিকে কিছুটা ধীরগতির থাকলেও থিতু হতে সময় নেননি মায়াজ সাদাঘাত। মালিঙ্গার বলে ডিপ পয়েন্টের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের ছন্দ খুঁজে নেন এই তরুণ ব্যাটার। শ্রীলঙ্কার বাজে ফিল্ডিং এবং অন্তত তিনটি ক্যাচ মিসের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২১৫ রান।
ষোলোতম ওভারে থিকশানের ওপর তাণ্ডব চালান একুশ বছর বয়সী মায়াজ। ওই ওভারের চার বলের মধ্যে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খরুচে ওভার উপহার দেন থিকশানাকে। দাসুন সানাকাকে চার ও ছক্কা মারার পর সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক ফারহান, যিনি করেন ৭৩ রান। সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলেও শেষ ওভারের শেষ বলে ইশান মালিঙ্গার বলে আউট হন মায়াজ। ৬টি চার এবং ৭টি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ৪০ বলে ৯৬ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরু থেকেই খাদের কিনারায় পড়ে। প্রথম ম্যাচে ৯১ রান করা লাহিরু উদারা সালমান মির্জার একটি ধারালো বাউন্সারের শিকার হয়ে দ্রুত ফিরে যান। সিনথ জয়াবর্ধনা পাওয়ারপ্লেতে কিছু রান তোলার চেষ্টা করলেও কুশল মেন্ডিসের ধীরগতির ব্যাটিং এবং পাওয়ারপ্লের শেষ বলে জয়াবর্ধনার আউটে ৬ ওভার শেষে লঙ্কানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৩৫ রানে ২ উইকেট।
এরপর পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পুরোপুরি পথ হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। মোহাম্মদ ইমরান নিখুঁত লাইন-লেন্থ বজায় রেখে চার ওভারে মাত্র ১১ রান খরচ করে শিকার করেন ৩টি উইকেট। এছাড়া সালমান মির্জা নেন ২ উইকেট। শেষ দিকে চামিন্দু বিক্রমাসিংহে এবং থিকশানের মধ্যকার একটি ফিফটি রানের জুটি কেবল পরাজয়ের ব্যবধানেই প্রলেপ দিয়েছে। দুই দলের ব্যাটিংয়ের শক্তির ব্যবধান ছিল স্পষ্ট, যেখানে পাকিস্তানি ব্যাটাররা পুরো ইনিংসে ১২টি ছক্কা হাঁকান, সেখানে শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে মোটে ৩টি ছক্কায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৩ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের পক্ষে মায়াজ সাদাঘাত ৯৬ এবং সাহেবজাদা ফারহান ৭৩ রান করেন।
